জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী দুই দশক ধরে জনসেবায় রত এক কীর্তিমান । জনাব চৌধুরী একজন উদ্যোক্তা হিসেবে বেসরকারি খাতে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন । ১৯৯৬ সালে তিনি একজন পূর্ণকালীন রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন । তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং ক্রীড়া প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে রাজনীতি এবং অর্থনীতির উপর যৌথ সম্মাননা প্রাপ্ত একজন স্নাতক । এছাড়াও তিনি ওয়েস্টমিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ের উপর ডিপ্লোমা লাভ করেছেন এবং যুক্তরাজ্যের বারে প্রবেশের জন্য একাডেমিক পর্যায় সম্পন্ন করেছেন ।

সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা :

১৬ অক্টোবর ২০১৪ সালে তিনি ২৮তম আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের ( I.P.U) প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হন । তিনিই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন । অক্টোবর ২০১৭ সালে এ পদে তার মেয়াদ শেষ হয় । কিন্তু গনতন্ত্র, বৈশ্বিক শান্তি, এবং উন্নয়নের উপর তার অসামান্য অবদানের জন্য আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন ( I.P.U) তাকে পুনরায় ৩ বছরের জন্য সম্মান সূচক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে। আই.পি.ইউ ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর জেনেভায় অবস্থিত । আই,পি,ইউ জাতীয় সংসদসমূহের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংসদীয় সংলাপের কেন্দ্রবিন্দু । জাতিসংঘের সকল নিরপেক্ষ উদ্যোগে সমর্থন এবং তা কার্যকর করতে এটি সহায়তা প্রদান করে। আই,পি,ইউ জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে আই,পি,ইউর সদস্যপদে ১৭৪ টি দেশের সংসদ অন্তর্ভুক্ত । এতে রয়েছে ৪৬,০০০ সংসদ সদস্য যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের ।

আন্তঃ সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য,রাশিয়া এবং ভিয়েতনাম জনাব চৌধুরীকে তাদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সন্মাননা প্রদান করে যথাক্রমে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে । এই অভূতপূর্ব সন্মাননা আই,পি,ইউর ১২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম।

নারী এবং শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক কার্যক্রম "সকল নারী সকল শিশু" । জনাব চৌধুরী এর উচ্চ পর্যায়ের কার্যকরী কমিটির একজন সদস্য। সাধারনত বিশ্ব জুড়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং জনসেবায় কর্মরত নেতৃবৃন্দ এই কমিটির সদস্য হন ।

তিনি ১৯৯৬ সালের জুন মাসে ঢাকার একটি কেন্দ্রীয় আসন থেকে সর্বপ্রথম সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন । একজন বিশিষ্ট আইন প্রনেতা হিসেবে 'কুষ্ঠ রুগি আইন' ( কুষ্ঠ রুগিদের সমাজ থেকে পৃথক এবং চিকিৎসা) বাতিল তার যুগান্তকারী সফলতা ।

জনাব চৌধুরী বহুবার কারাগারে আটক এবং নির্যাতনের শিকার হন । এর ফলশ্রুতিতে তিনি ২০১৩ সালে কয়েদি নির্যাতন এবং মৃত্যু (নিষিদ্ধকরণ) আইন প্রস্তাব করেন যা জাতিসংঘের নীতিমালার অনুরূপ । তিনি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সফলভাবে সংবিধানে সংশোধন এর ব্যবস্থা করেন ।

একাদশতম জাতীয় সংসদে বর্তমানে তিনি চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ।

জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণ, টেকসই উন্নয়ন এবং ২০১৫-এর পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডাই মূলত জনাব চৌধুরীর সকল রাজনৈতিক প্রচেষ্ঠা এবং সমর্থনের মূল লক্ষ্য ।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণ (পিএনএনডি) কমিটির সহ সভাপতি হিসেবে তিনি পারমানবিক অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহৃত সম্পদ মানব কল্যানে ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানান ।  

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে ভূমিকা:

জনাব চৌধুরী চট্টগ্রামের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় যা ঐ সময় বৃহত্তম মন্ত্রণালয় এর উপ-মন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৯-২০০১ সালে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন মন্ত্রী পরিষদের তরুণতম সদস্য । তার কর্মশক্তি, প্রানোচ্ছলতা মন্ত্রনালয়ের কাজের ক্ষেত্রে ভিন্নমাত্রার গতিশীলতা আনে ।  

রাজনৈতিক দলীয় পর্যায়ে ভূমিকা:

জনাব চৌধুরী ২০০১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এর কিছুকাল পরে, তিনি ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (১) নির্বাচিত হন, যা বাংলাদেশের ৩০০ টি নির্বাচনী এলাকার ৯০ টির জন্য দায়বদ্ধ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই সব ৯০ টি আসন জিতেছে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে অব্যাহত ছিলেন।

একজন ক্রীড়া প্রশাসক হিসাবে ভূমিকা:

১৯৯৬ -২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে জনাব চৌধুরীর অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ (টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন) এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হিসাবে ক্রিকেটের রূপান্তরে সহায়ক ছিল।

২০০০ সালে বিসিবি (জনাব চৌধুরী এর প্রেসিডেন্সি অধীন) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান, স্বাধীনতা পুরস্কারের সাথে স্বীকৃত হয়।

২০০৩ সালে তিনি ইংল্যান্ডের মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাব অফ লর্ডস কর্তৃক বিশ্ব ক্রিকেটে তার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদ লাভ করেন।